Home / মোবাইল রিভিউ / মটোরোলা Moto G রিভিউ

মটোরোলা Moto G রিভিউ

Moto G মটোরোলার এই সময়ের অন্যতম সেরা বাজেট স্মার্টফোন। খুবই কম দামে পাওয়া যাচ্ছে দারুন সব ফিচার। যাদের বাজেট কম কিন্তু ভাল একটি স্মার্টফোন কেনার আশায় আছেন তাদের জন্যই Moto G হতে পারে সেরা চয়েস। চলুন দেখি রিভিউ . . .

ডিজাইনঃ

Moto G সময়ের অন্যতম বাজেট স্মার্টফোন। দাম কম হলেও ফোনটির ডিজাইন চমৎকার। প্রথমে মনে হতে পারে ফোনটি বুঝি খুব একটা ভাল বিল্ড কোয়ালিটির হবেনা! কিন্তু ফোনটি হাতে নিলেই আপনার ধারনা ভুল প্রমানিত হবে। মোটোরোলার এই ফ্ল্যাগশিপ প্রোডাক্টি আসলেই অনেক দারুন। ফোনটির পেছনের দিন কিছুটা বাকানো, ফলে তা সহজেই হাতে নিয়ে ব্যবহার করা যায়।

Moto G এর ডাইমেনশন হল 5.1×2.5x.46 ইঞ্চি।  তাই খুব স্বাচ্ছন্দের সাথে হাতে এবং পকেটে নেয়া যায়। Moto G তে কোন এলুমিনিয়াম বা পোলাইশড স্টিল ব্যবহার করা হয়নি। এতে রয়েছে সলিড প্লাস্টিক বডি। এর পেছনের অংশ ম্যাট ফিনিশিং করা। ফলে সহজেই আঙ্গুলের ছাপ পড়ে। তাই, আপনি ইচ্ছা করলেই ব্যাক কভার কিনতে পারেন।

Moto G এর ওজন প্রায় ৫ আউন্স। এর ডান পাশে আছে ছোট একটি পাওয়ার বাটন এবং ভলিউম রকার। ফোনের উপরের অংশে রয়েছে 3.5 mm হেডফোন জ্যাক। এতে ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা আছে, সাথে একটি LED ফ্ল্যাশ । আর ক্যামেরার পাশেই আছে স্পিকার। পেছনের দিকে আরো একটি বিষয় আপনার নজর কাড়বে তা হল মটোরোলার লোগো। ‘M’ চিহ্নটি ছোট একটি গর্তের মধ্যে রয়েছে। তর্জনি আঙ্গুলটি সহজেই গর্তের মধ্যে রাখা যায়।

ফোনের ব্যাক কভার খুললেই দেখা মিলবে নন রিমুভাল 2070mAh লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। আর ডান পাশেই আছে স্প্রিং লোডেড মাইক্রো-সিম কার্ড স্লট। আর এতে কোন এসডি কার্ড স্লট নেই। যা ফোনটির অন্যতম ড্রব্যাক।

ডিসপ্লেঃ

Moto G তে আছে 720p  রেজোলিউশান আর ৪.৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে। ডিসপ্লে টেকনোলোজি হিসেবে LCD ব্যবহার করা হয়েছে। আর পিক্সেল ডেনসিটি 329 PPI. তাই, এর ডিসপ্লে যে অসাধারণ হবে তা বলার অপেক্ষা রেখেনা! আর Moto G এর অটো ব্রাইটনেস খুবই ভাল যা সূর্যালোকেও ভালভাবে ব্যবহার করা যায়। ভিউইং এঙ্গেলও মোটামুটি ভাল। 

 

ইউজার ইন্টারফেসঃ 

Moto G,  Android 4.3 Jelly Bean চালিত এই সময়ের অন্যতম বাজেট ফোন। যদিও  Android 4.3 Jelly Bean গুগলের লেটেস্ট অপারেটিং সিস্টেম নয় তবুও একটি খুশির খবর হল Moto G ২০১৪ সালের জানুয়ারিতেই  KITKAT পেতে যাচ্ছে। এতে স্টক জেলিবিন ইউজ করা হয়েছে যাতে ইউজারদের প্রয়োজনীয় দিকগুলোতে নজর দেয়া হয়েছে। ফোনটি খুব দ্রুত বুট হয় এবং ডাটা ম্যানেজমেন্ট আগের চাইতে অনেক উন্নত করা হয়েছে। মটরোলা দাবি করেছে, এটি কিছু কাজ স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ফোরের চাইতেও দ্রুত সম্পাদন করতে পারে!

  

এটি সত্য যে Moto G এর ইউজার খুবই স্মুদ ও স্পিডি। স্বাভাবিক কাজগুলো সহজেই করা যায় আর এতে কোয়াড কোর সিপিউ ইউজ করার ফলে ল্যাগের কোন প্রশ্নই আসেনা। পাঁচটি হোমস্ক্রিন আছে। ইচ্ছা করলেই আর হোমস্ক্রিন এড করা যাবেনা। কাস্টোমাইজ করতে হলে থ্ররড পার্টি লঞ্চার ইউজ করতে হবে। নোটিফিকেশন বার নামালেই নতুন মেসেজ, ইমেইল এর তথ্য পাওয়া যাবে। হোম কি কে উপরের দিকে গ্লাইড করলেই গুগল নাউ ওপেন হবে। মাল্টি টাসকিং কি ট্যাপ করলেই রানিং এপস গুলো দেখতে পাওয়া যাবে। এতে কোয়াড কোর প্রসেসর ইউজ করা হয়েছে তাই একসাথে অনেক এপস রান করা যায় এবং খুব দ্রুতই সুইচ করা যায়। সাধারণ এপস গুলো কোন ল্যাগ ছাড়াই চলে। যেমনঃ Stick Cricket, Stick Tennis ইত্যাদি।

কন্ট্যাক্ট

Moto G তে স্টক Android ব্যবহার করা হয়েছে তাই কলার এপস এ তেমন কোন পরিবর্তন করা হয়নি। ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুসারে কন্ট্যক্টগুলো সাজানো থাকে। কন্ট্যাক্টগুলোতে Google+ আর Whatsapp ইন্টিগ্রেশন করা আছে কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে Facebook বা Twitter ইন্টিগ্রেট করা নেই।

  

ম্যাসেজিং:

ম্যাসেজিং এপটিতেও নতুন কোন পরিবর্তন নেই। যারা আগে Android স্মার্টফোন ব্যবহার করেছেন তারা এতে নতুন কিছু খুজে পাবেন না। ডান দিকে নিচে আছে নতুন মেসেজ ক্রিয়েট করা আর আছে মেসেজ সার্চ করার সুবিধা। মেসেজের পাশেই মেসেজ দাতার ছবিও দেখা যাবে। এখানেও টুইটার কিংবা ফেসবুক ইন্টিগ্রেশন নেই! ভালো খবর হল, Moto G তে আছে Hangout! ফলে একই এপস থেকেই টেক্সট পাঠানো আর গুগল কন্ট্যাক্টের সাথে সরাসরি কথা বলা যাবে! এক্ষেত্রে আপনি একাধিক জিমেইল একাউন্ট লগিন করতে পারবেন। খুব দ্রুতই একটী হতে অন্যটিতে সুইচ করা যায়। আর কিবোর্ড ও যথেষ্ট ভাল। কুইকলি টাইপ করার উপযুক্ত।

  

Moto G এর কলিং এপ খুবই ডিসেন্ট ও ফাস্ট। খুব দ্রুতই কল করার ক্ষেত্রে দারুন। কালো ব্যাকগ্রাউন্ডের মাঝে নিয়ন ব্লু কালারের সংখ্যা, যা দেখতে খুবই চমৎকার। কল করার জন্য নামের কিছু অক্ষর অনুযায়ী সংখ্যা চাপলেই কন্ট্যাক্টটি চলে আসবে। ফোনের ভয়েস কোয়ালিটি ভালোই বলা যায়। ক্রিস্টাল ক্লিয়ার কল কোয়ালিটির স্বাদ পাওয়া যাবে। কিন্তু মাঝে মাঝে কল ডিসমিস করার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় নেয়।

ইন্টারনেটঃ

Moto G এর ডিফল্ট ব্রাউজার হল গুগল ক্রোম। ওয়াই ফাই কানেকশান স্ট্রং হলে খুব দ্রুতই ওয়েব পেজ লোড হয়।একটি দুঃখের ব্যাপার হল Moto G তে 4G নেই! তাই 3G ডাটা প্ল্যান ইউজ করতে হবে। এত কম দামের এই স্মার্ট ফোন দিয়ে খু সহজেই ও চমৎকারভাবে ইন্টারনেট ব্রাউজ করা যায়। টেক্সট খুবই নিখুত, ছবিও অনেক উজ্জ্বল। তাই, মনেই হবেনা যে আপনি বাজেট ফোন ইউজ করছেন। ব্রাউজারে ডাবল ট্যাপ করলেই বড় আকারে ব্রাউজ করা যায় আর পিঞ্চ টু জুম করার সুবিধা তো আছেই। কিন্তু, ক্রোমে কোন রিডার মোড নেই যা একটি নেগেটিভ সাইড। একসাথে অনেক ট্যাবেই নেট ব্রাউজ করা যায় কোন ল্যাগ ছাড়াই। ইনকগনিটো মোডে ব্রাউজ করার  সুবিধা তো থাকছেই। আর ইচ্ছা করলেই ডেস্কটপের সাথে সিঙ্ক করা যায়! এজন্য শুধু গুগল একাউন্ট এ লগিন করতে হবে।

ক্যামেরা ও ভিডিওঃ 

Moto G এর সবচেয়ে খারাপ দিক হচ্ছে- এতে ক্যামেরা মাত্র ৫ মেগাপিক্সেল! এতে LED ফ্ল্যাশ ব্যবহার করা হয়েছে। আর ফ্রন্ট ক্যামেরা ১.৩ মেগাপিক্সেল। মটোরোলা ক্যামেরা এপে কিছু পরিবর্তন এনেছে। পুরো স্ক্রিনই শাটার কি হিসেবে কাজ করবে! যা ভাল একটি দিক বটে কিন্তু এর ফলে আনাকংখিত ছবিও তোলা হয়ে যাবে। কেউ যদি সত্যিই ভাল ফট তুলতে চান আর ব্রাইটনেস, হোয়াইট ব্যালেন্স ইত্যাদি নিয়ন্ত্রন করতে চান তাহলে মটো জি আপনার জন্য নয়। ফোনটির ক্যামেরা আপনাকে হতাশ করবে!

এতে সেটিং অপশন হাইড করা থাকে, একপাশ থেকে সুইপ করলেই সেটিং মেনু পাওয়া যাবে। এতে আছে 4x ডিজিটাল জুম, HDR, সুইপ প্যানোরোমা মোডসহ আধুনিক সব ফিচার।

ক্যামেরার মতো এই ফোনের ভিডিও কোয়ালিটিও খুব একটা ভাল নয়! এতে  720p ভিডিও করা যায়। বাকি অপশান গুলো ক্যামেরার মতোই। রেকর্ডার বাটনে টাচ করলেই ভিডিও রেকর্ড শুরু হবে। এতে স্লো মোশন ক্যাপচার নামে নতুন একটি ফিচার যোগ করা হয়েছে। রেকর্ড করা ভিডিও মোবাইল স্ক্রিনে মোটামুটি হলেও টিভির সাথে কানেক্ট করলে তা খুব একটা ভাল দেখায় না।

মিডিয়াঃ

 

  

Google Play Music হল মতো জি এর ডিফল্ট মিউজিক প্লেয়ার। ফোন মেমরিতে মিউজিক ফাইল গুলো খুব সহজেই প্লে করা যায়। মাই লাইব্রেরি থেকে প্লে করা যায়। আর মিউজিক কোয়ালিটি খুব একটা ভাল নয় আবার বাজেও নয়।

 

Moto G এ যে এফ.এম রেডিও আছে তা দিয়ে স্ট্রিমিং এর দ্বারা বিভিন্ন রেডিও স্টেশন শোনা যাবে। আটোমেটিক স্টেশন গুলোসার্চ করে হেডফোন কানেক্ট করে।

 

Moto G তে কোন ডেডিকেটেড ভিডিও প্লেয়ার নেই। এক্ষেত্রে থার্ড পার্টি ভিডিও প্লেয়ার ইন্সটল করতে হবে। ভিডিও প্লেয়িং এ কোং ল্যাগ লক্ষ্য করা যায়নি। ভিডিও প্লে করার ক্ষমতা HTC ONE Mini কিংবা S4 mini এর সাথে তুলনীয়। মতো জি তে টিভি শো গুলোও উপভোগ করা যায়। এটি খুব ভারি নয় তাই হাতে নিয়ে যেকোন অনুষ্ঠান এনজয় করার জন্য পারফেক্ট।

গ্যালারিতে গেলেই ফটো গুলো গ্রিড আকারে দেখা যাবে। ছবিতে ক্লিক করলেই তা বড় হবে। পিঞ্চ করলেই জুম করা যায়। আর রয়েছে বিল্ট ইন ফটো ইডিটর।

ব্যাটারি লাইফ ও কানেক্টিভিটিঃ

  

Moto G তে 2070mAh ব্যাটারি ইউজ করা হএছে ফলে নরমাল ইউজে একদিন চলে যায়। কয়েক ঘন্টা মিউজিক প্লে, ইমেইল আপডেট, ইন্টারনেট ব্রাউজিং আর কিছুক্ষন সোসাল নেটওয়ার্কে ঘোরাঘুরি করলে অনায়াসেই একদিন কাটিয়ে দিতে পারবেন চার্জ দেয়া ছাড়া! ব্যাকগ্রাউন্ড এ অপ্রয়োজনীয় এপ কিল করে, ব্রাইটনেস কমিয়ে ইউজ করলে আরো বেশিক্ষন চার্জ থাকবে বলে আসা করা যায়।

Moto G তে Wi-Fi, ব্লুটুথ, জিপিএস, থ্রিজি রয়েছে। নোটিফিকেশন বার নামালেই দেখা মিলবে বিভিন্ন কানেক্টিভীটির অপশন। আরো অপ্সহন এর জন্য সেটিং আ যেতে হবে। এতে NFC এবং 4G এর কোনটি ই নেই!

Moto G এর ডিসপ্লে ও পারফরমেন্স দারুন। কিন্তু ক্যামেরা খুব একটা ভাল নয়। সর্বোপরি, কম বাজেটের মধ্যে moto g একটি সেরা চয়েস।

Mobile Update

About Nazmul Shuvo

আপনার মূল্যবান কমেন্ট করুন :)